প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজের আয়োজন করেন। এই ভোজের আয়োজন করা হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসে।
শি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান যখন হোয়াইট হাউসে পৌঁছান, তখন ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের স্ত্রীরা একত্রে ছবি তোলেন এবং ভোজে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভোজ শুরু হওয়ার পর, শি চিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ প্রদান করেন।
শি চিন পিং তার ভাষণে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী এবং সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনাও ব্যক্ত করেন।
শি চিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, যা চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কের নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
শি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে এবং এর পরপরই চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান শুরু হয় তখন।
তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রক্ত ও অগ্নিপরীক্ষায় গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে। ৫০ বছরেরও বেশি আগে দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিল টেবিল টেনিস কূটনীতি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিকরা ‘ছোট একটি বল বড় একটি বলকে নাড়ায়’-এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মহান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি আগে রোনাল্ড সাকোলস্কি নামের এক মার্কিন নাগরিক চীনের মরুকরণ নিয়ন্ত্রণকর্মী ইন ইয়ু চেনকে বৃক্ষরোপণে সহায়তা করেছিলেন। তাদের গল্প বহু চীনা মানুষকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।
শি চিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।
শি চিন পিং উল্লেখ করেন, আজ চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করা। ইতিহাসের স্রোত বয়ে চলেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্ভাবনাও বিস্তীর্ণ। উভয়পক্ষকে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং চীন-মার্কিন ‘বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলের’ যত্ন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তার মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। তিনি বলেন, আজ রাতে দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মৈত্রী উদযাপন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-উভয় দেশেরই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছুক।
ভোজসভাটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোজ চলাকালে মার্কিন শিল্পীরা চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন