প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করতে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঘরেই বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা বসবাস করছেন না। অনেকের বিরুদ্ধে ঘর বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। আবার কেউ কেউ সরকারি বরাদ্দের ঘর ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, বন্ধ ঘরগুলো নতুনদের নামে বরাদ্দ দেয়া হবে।
একসময় যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এর উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান করা এবং নিরাপদে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়া। কিন্তু সিলেটের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া অনেক ঘরেই বসবাসকারী নেই। কোথাও কোথাও ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার ধনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২৫৭ পরিবারের থাকার কথা, সেখানে প্রায় একশো ঘরে তালা ঝুলছে। আবার কেউ কেউ সরকারি ঘর ভেঙে নিজেদের মতো করে নতুন করে তৈরি করেছেন। ঘর তৈরিকারী একজন জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণের খবর পেয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। পূর্বের অবস্থায় সেটি নির্মাণের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার ধনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প উপকারভোগী সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম আলী জানিয়েছেন, ২৫৭ ঘরের মধ্যে একশো ঘর তালাবন্ধ রয়েছে। অনেকগুলো ঘর বিক্রি হয়ে গেছে।
সিলেট গোয়াইনঘাট উপজেলায় একশ ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা নোয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অর্ধেকেরও বেশি ঘর বসতিহীন। আবার অনেক ঘর হাতবদল হয়ে গেছে টাকার বিনিময়ে। সরেজমিনে গিয়ে এমন সত্যতা পাওয়া যায়।
গোয়াইনঘাট নওয়াগাঁও আশ্রায়ণ প্রকল্প উপকারভোগী সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল হোসেন জানিয়েছেন, নোয়াগাঁও গ্রামে বাবার জমিজমা রয়েছে, এমন অনেকেই ঘর পেয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোয়াগাঁও প্রকল্পে ঘর পাওয়া অনেকের স্থায়ী ঠিকানা ও ঘর রয়েছে। প্রকল্পের কাছে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় সেইসব ব্যক্তিদেরও।
আরও করুণ চিত্র দেখা গেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুনামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। ২৯ ঘরের মধ্যে অধিকাংশ খালি পড়ে রয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মনোনয়নের কারণে বাড়ি-ঘর আছে এমন ব্যক্তিরা এসব ঘর পেয়েছেন। তাই ঘরগুলো খালি পড়ে রয়েছে এবং রাতে খালি ঘরগুলোতে নানা অপকর্ম ঘটে।
এদিকে, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা ঘরগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের নামে বরাদ্দ দেয়া হবে।
জানা গেছে, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় পাঁচ হাজার ৯১৫ জনের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন