প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফায় করা অঙ্গীকারের অধিকাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সফলভাবে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লক্ষ্য অনুযায়ী কিছু স্থানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ এবং কোথাও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয় সংক্রান্ত একটি লিখিত বর্ণনা বা বুকলেট আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে দেওয়া হবে।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের শুরুতে প্রস্তুতি নেয়া এবং প্রশাসনকে গুছিয়ে নেওয়া জরুরি ছিল। এছাড়া কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইমপ্লিমেন্টিং ইন্সট্রুমেন্ট’ প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এই প্রস্তুতির জন্য সময় লাগে। পরবর্তী ছয় মাসে কর্মসূচিগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে বলেও আশা করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসহ মোট কত কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে - সেসবের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দলের মহাসচিবের পদত্যাগ নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তার বক্তব্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তিনি দলের নির্দেশনা অনুসারে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনগতভাবে শপথ নেওয়ার আগে দলীয় পদ বা সরকারি পদ, যেমন মন্ত্রী বা এমপি থেকে পদত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যেহেতু তিনি দলের মনোনীত রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, তাই নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই তা জানানো হবে। দলের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে যথাসময়ে অবহিত করা হবে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস এবং সংগঠনটির নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তবে তা দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হবে। আর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল দেশব্যাপী দোয়া অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেলা ১১টায় দোয়ার আয়োজন করা হবে। গুলশান কার্যালয়েও দোয়া মাহফিল হবে। একইভাবে দেশের সকল দলের কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ও মূল প্রেরণা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ হয়েছে, গোটা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র আক্রান্ত হয়েছে। দেশের বহু পথ ও মতের রাজনীতি আক্রান্ত হয়েছে। তবুও তাকে তার কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। হিমালয় পর্বতের মতো মাথা উঁচু করে তিনি দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেছেন এবং তার অঙ্গীকারে অটল রয়ে গেছেন।
আগামীকালের দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) ও প্রধানমন্ত্রী গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) তারিকুল আলম তেনজিং, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন