প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে ছিলেন পটুয়াখালীর এক হোটেল মালিক আঃ মান্নান প্যাদা (৭০)। অবশেষে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস টিমের অভিযানে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত আঃ মান্নান প্যাদা পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে বরগুনা জেলার তালতলী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন আঃ মান্নান। ওই হোটেলে বিদ্যুৎ নির্মাণ কাজের দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা নিয়মিত খাবার খেতেন এবং মাস শেষে বিল পরিশোধ করতেন। এর পাশাপাশি মান্নান বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে মালামাল ক্রয় করতেন।
ব্যবসা পরিচালনার একপর্যায়ে দুই কোম্পানির শ্রমিক ও ঠিকাদারদের কাছে তার ১২ লাখ টাকার বেশি পাওনা জমে যায়। অপরদিকে স্থানীয় মুদি, মুরগি ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছেও তিনি বড় অংকের দেনাদার হয়ে পড়েন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান জানান, পাওনা টাকা তোলার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের কোনো এক রাতে প্রথম কোম্পানির মালিকের কাছে গেলে তিনি ৪ লাখ টাকা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে পাওনাদারদের কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। এ সময় হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদার তাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন।
ম্যানেজারের পরামর্শ ও প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে আঃ মান্নান দেশজুড়ে আত্মগোপনের পথ বেছে নেন। অন্যদিকে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের ছেলে মো. জসিম প্যাদা প্রথমে পটুয়াখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৬৪/৩৬৫/১০৯ ধারায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ম্যানেজারের কথামতো আত্মগোপনে গিয়ে আঃ মান্নান দেশের বিভিন্ন স্থান ও মাজারে ছদ্মবেশে জীবন কাটাতে শুরু করেন। তার দীর্ঘ এই পথচলার রুট ছিল নিম্নরূপ:
তালতলী থেকে প্রথমে পটুয়াখালী হয়ে ঢাকায় গমন।
সেখান থেকে ট্রেনযোগে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার কেবলা বাবার মাজার।
কুমিল্লার বেলতলা সোলেমান ল্যাংটা বাবার মাজার ও চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার মাজার।
পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায় দারোয়ানের চাকরি।
যশোর বড়বাজার গাজী কালুর মাজার, বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার এবং বাকেরগঞ্জের বারো আউলিয়ার মাজার।
সর্বশেষ বাগেরহাট মাজারে পরিচয় হওয়া এক ধর্মের মেয়ের বাসা বরিশাল হয়ে মাদারীপুরের কালকিনিতে ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ছদ্মবেশ ধারণ করায় এবং বিভিন্ন মাজারে ও বেদে পল্লীতে ঘুরে বেড়ানোর কারণে দীর্ঘদিন তার সঠিক অবস্থান সনাক্ত করতে বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে কালকিনি থানার বেদে পল্লী থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান পাওনাদারদের ফাঁসাতেই এই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মিথ্যা মামলার নেপথ্যে সহায়তাকারী ও জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন