প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৮ জুলাই থেকে ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ করে রেখেছেন অনির্দিস্টকালের জন্য।
স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ হল, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে তারা নিম্নমানের মাটিমিশ্রিত পাথর সরবরাহ করছে। এই নিম্নমানের পাথর এবং চড়া দাম বাংলাদেশের বাজারের সঙ্গে মিলছে না। এর ফলে আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত লোকসানে পড়ছেন। তাই সাময়িকভাবে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরটি কুড়িগ্রামে অবস্থিত। গত ৪ দিনের মধ্যে সেখানে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। তাই বন্দরের দৃশ্য পুরোপুরি ভিন্ন হয়ে গেছে। বন্দরের ওয়্যার হাউজ ফাঁকা হয়ে আছে। ভারতীয় ট্রাকগুলোর এখানে কোন আনাগোনা নেই, পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো অলস পড়ে রয়েছে, অধিকাংশ ডিপোও পাথর শূন্য হয়ে গেছে এবং ট্রাক টার্মিনাল খালি।
স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্ধরে প্রবেশ করতো। এখন পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
পাথর আমদানিকারকদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন তা গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত খারাপ। তারা রিভার স্টোন বোল্ডারের বদলে ছোট পাথর সরবরাহ করছেন। অটোক্রাশ মেশিন দিয়ে ভাঙলে পাথর অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে, ফলে পাথরের স্বাভাবিক মাপে মিলছে না এবং কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাইছে না।
এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। পূর্বে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার। বাংলাদেশে আসতেই খরচ দাড়াচ্ছিল ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা। এরপর, ভারত থেকে আমদানি করা যে পাথর সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করা হয়, তাতে মাটি ও বালি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, ফলে পাথর ভাঙার পর মানও খারাপ হচ্ছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নিম্নমানের পাথর সরবরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকাল পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ভারত থেকে যেভাবে চাহিদামতো পাথর পাওয়া যাচ্ছে না এবং পাথরের মান খারাপ হচ্ছে, সেখানে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ভারত থেকে পাথর আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানিয়েছেন, দুদেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের কারণে এই সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। সরকার প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন