প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। তবে ব্রাসেলসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের এই দাবির সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।
জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে, যা উত্তর ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্য তাদের অভিযানে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়েছে। তিনি ইউরোপীয় কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "বিশ্বব্যাপী এই বার্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে যে, ইরানি সরকারের অর্থায়নের প্রতিটি উৎস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থামবে না।"
তবে ব্রাসেলসের প্রকাশিত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইইউ মার্কিন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ইইউ-এর বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইইউ ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ইইউ জানায়, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে এই নথির কোথাও ইইউ নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ সরাসরি যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমর্থন জানানো (Endorsement) এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করার (Participation) মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান। মার্কিন পরিচালিত এই অভিযানে প্রধান অস্ত্র হলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’—অর্থাৎ, যেসব দেশ বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইরানের সাথে ব্যবসা বজায় রাখবে, তাদের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেমে আসবে।
ইইউ যদি এই অভিযানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিত, তবে তাদের নিজস্ব আইনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপরও একই ধরনের বিধিনিষেধ ও জরিমানা কার্যকর করতে হতো। তাছাড়া ইইউ-তে যেকোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি প্রণয়নে ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মত সম্মতির প্রয়োজন হয়। জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো, যারা এখনো ইরানের সাথে ইইউ-এর মোট বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের আর্থিক স্বার্থ এখানে সরাসরি জড়িত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইইউ মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি সোমবারের পূর্ববর্তী বিবৃতিটি উল্লেখ করা ছাড়া নতুন কোনো স্পষ্টীকরণ দেননি। ফলে ওয়াশিংটন যা দাবি করছে এবং ইউরোপ বাস্তবে যা করছে—তার মধ্যকার দূরত্ব এখনই ঘুচছে না। ইউরোপীয় ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন অভিযানে ‘সমর্থন দেওয়া’ আর ‘সরাসরি যোগ দেওয়া’র মধ্যে পার্থক্যটি এখন জীবন-মরণের সমান। সূত্র: ইউরো নিউজ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন