প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রিন্সেস অফ ওয়েলস, ডায়ানার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও, তাঁর স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে যে ক্ষত এখনও শুকায়নি, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেন্সারের লেখা নতুন একটি স্মৃতিকথা প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং স্পেন্সার পরিবারের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
‘সওয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’ (Swan Song: Diana, My Sister) শিরোনামের এই নতুন বইটিতে আর্ল স্পেন্সার রাজপরিবারের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। বইটির তথ্য অনুযায়ী, ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লস নাকি ফোনে স্পেন্সারকে বলেছিলেন, "আমরা খুব দ্রুতই তাঁকে ভুলে যাব।" এছাড়াও, বোন হারানোর খবরের পর চার্লসের কণ্ঠস্বরকে "অত্যধিক আনন্দিত" বা লটারি বিজয়ীর মতো শোনার দাবি করেছেন তিনি।
সাধারণত রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো হয় না, তবে এবার নীরবতা ভেঙেছে বাকিংহাম প্যালেস। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে আর্ল স্পেন্সারের এই দাবি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে নাকচ করা হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেসের এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, স্বজন হারানোর গভীর শোক অনেক সময় মানুষের স্মৃতি ও বিচারবুদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে প্যারিসে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতি জনরোষ চরম আকার ধারণ করেছিল। ডায়ানার শেষকৃত্যে আর্ল স্পেন্সারের দেওয়া বিস্ফোরক ভাষণ ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের ভেতরের পরিবেশ স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
রাজপরিবারের বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদদের মতে, আগামী বছর প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর ৩০ তম বার্ষিকী সামনে রেখে এই স্মৃতিকথার প্রকাশ রাজপরিবারের তিন দশকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ (YouGov) অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ এই ইস্যুতে বিভক্ত—৩১ শতাংশ আর্ল স্পেন্সারকে বিশ্বাস করছেন, ৩৬ শতাংশ রাজপরিবারের পক্ষ নিচ্ছেন এবং ৩৩ শতাংশ অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, ডায়ানার স্মৃতির ট্রমা যে কেবল তাঁর দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির জীবনেই প্রভাব ফেলেনি, বরং পুরো রাজপরিবার এবং স্পেন্সার পরিবার আজও সেই অতীতের ছায়া থেকে বের হতে পারেনি—এই নতুন বই তারই প্রমাণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন