প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রটি গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা হয়। অপ্রতিমের পরিবার এখন দ্রুত ও ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, "আমাদের কাজ শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়েছি। এখন বাকি কাজ আদালত করবে।"
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ার কারণে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার জন্য সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, পরিকল্পনায় সিয়াম জড়িত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায়। সেখানে অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে যে, এর ফলে অপ্রতিমের মৃত্যু ঘটে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তার মুঠোফোন নিয়ে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, "গতকাল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আশা করছি, আদালতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। বয়সের ফাঁক যেন আসামিদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে না দেয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন