প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে স্বল্প বেতনে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা উচিত।
বুধবার দলের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার সন্তান পোশাক শ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, তবে দেশের পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকার এখনো সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে। কারণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের পক্ষে জীবন ধারণ করা সত্যিই অসম্ভব। উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে অবিলম্বে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা ঠিক যে শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও সমভাবে সত্য যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়বে।’
অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
একই সঙ্গে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি, তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে অক্ষত রাখুন। কারণ শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারাও বেঁচে থাকবেন।’ পাশাপাশি কারখানা মালিকদের উদ্দেশে তিনি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন