প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্দেশ্যে এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিসচার একটি প্রতিনিধি দল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
সাক্ষাৎকালে নিসচার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয় যে, সড়ক নিরাপত্তা এখন আর শুধু পরিবহন খাতের বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে সরকারের, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, পরিবহন খাত এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ সময় নিসচার পক্ষ থেকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে নিসচাকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য শক্তিশালী জাতীয় দুর্ঘটনা ডাটাসেল গঠন, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় এবং তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে নিসচা। চালক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
নিসচা আরও প্রস্তাব করে যে, জাতিসংঘের ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আলোকে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক এবং নিয়মিতভাবে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হোক, যাতে নিসচাকে সম্পৃক্ত রাখা হয়।
বৈঠকে সড়ক, রেল ও নৌপথের নিরাপত্তাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে পৃথক একটি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এই পরিকল্পনার মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, রিয়েল টাইম দুর্ঘটনা তথ্য পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার ব্যবহার, অটোমেটেড ফাইন ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান দ্রুত সংস্কারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধ করা, চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা, লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস ব্যবস্থায় কঠোরতা, ওভারস্পিডিং ও ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত চালক ডোপ টেস্টের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।
রেলপথের নিরাপত্তায় লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় গেট ও গেটম্যান, আধুনিক সিগন্যালিং ও ট্র্যাক মনিটরিং এবং অবৈধ রেললাইন পারাপার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। নৌপথের ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন নৌযান বন্ধ, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাইওয়ে এলাকায় ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট, পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ককে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ গ্রহণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে নিসচার পক্ষ থেকে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ঢাকার বাইরে টার্মিনাল স্থানান্তর এবং ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।
নিসচার উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তিনি বিষয়গুলো নিজে যাচাই করে দেখবেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নিসচা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবারও বসবেন। সড়ক নিরাপত্তায় নিসচাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য তার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিসচার প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজনের সময় তাকে পাওয়া যাবে। নিসচাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন