প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। তিনি টানা ১৮ মাস ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী ও ছাত্র বিক্ষোভের চাপের কারণে এ ঘোষণা দেন। শনিবার (২৭ জুন) বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত বিশাল এক সরকারপন্থী সমাবেশে ভুচিচ জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন এবং দেশে আগাম রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভুচিচ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে দেশের ক্ষমতায় আছেন। তার এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সার্বিয়ায় বিক্ষোভের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আন্দোলনে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারী এবং বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, সরকারি প্রকল্পগুলোর চরম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
২০০০ সালের পর এটিকে সার্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। সমাবেশে ভুচিচ বলেন, 'আমি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ রাষ্ট্রপতি থাকব, তারপর পদত্যাগ করব।' উল্লেখ্য, তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এই পদত্যাগ রাজনৈতিক জীবনের শেষ নয়, বরং এটি তার নতুন কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সার্বিয়ায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও, ভুচিচ এতদিন দল ও সরকারের ওপর একক প্রভাব বজায় রেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি আগামী সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং তার দল জয়ী হলে তিনি পুনরায় দেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এর মাধ্যমে ভুচিচের জন্য ক্ষমতা পদবি নির্বিশেষে বজায় থাকবে।
ওয়ারশ-ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেন, এটি মোটেও ভুচিচের শেষ নয়। তার মাথায় ইতিমধ্যেই নতুন পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না বলেও জানান। ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রধান সাভো মানোজলোভিচ ভুচিচের এই ঘোষণাকে তাদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণার মাধ্যমে ভুচিচ মূলত তার অবশ্যম্ভাবী পতন ঠেকাতে চাচ্ছেন, কারণ বর্তমানে ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের সমর্থন তার চেয়ে অনেক বেশি।
সমাবেশে ভুচিচ তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের ক্ষতি করছে এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে। তবে তিনি একইসাথে দেশে দুর্নীতি নির্মূল, দরিদ্রদের জন্য পেনশন ও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য পদের প্রার্থী দেশ হিসেবে সার্বিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং দুর্নীতি দমনের শর্ত পূরণ করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভুচিচ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ এবং বিরোধী মত দমনে লিপ্ত রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন