প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের মতো একটি বড় শিরোপা জেতার পরও স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। জাতীয় দলের সাফল্যে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ব্যক্তিগত প্রত্যাশার উচ্চতা এতটাই বেশি যে, ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মধ্যে এখনও আক্ষেপ রয়েছে।
ইয়ামাল ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তিনি ২৪ গোল করেছেন এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কাতালান ক্লাবটি লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে।
এরপর ইয়ামাল স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলে তার গোল ছিল মাত্র একটি এবং অ্যাসিস্টের সংখ্যা ছিল শূন্য। যদিও দলীয় সাফল্য এসেছে, কিন্তু নিজের পরিসংখ্যান এবং প্রত্যাশার তুলনায় পারফরম্যান্সের ঘাটতি তাকে হতাশ করেছে।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারার জন্য ইয়ামাল চোটকে দায়ী করতে চান না। তিনি মনে করেন, চোট না থাকলেও তার পারফরম্যান্স একই রকম হতে পারত। এমনকি যদি আবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আসে, তবুও তিনি একইভাবে খেলতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইয়ামাল বলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। যদিও চোটের বিষয়টি সত্য, কিন্তু সেটি তার হতাশার কারণ নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
তবে ইয়ামালের দাবি, মাঠে তার অনেক অবদান রয়েছে, যা গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করার বিষয়টি। তার মতে, একজন কোচের জন্য এমন খেলোয়াড় বড় সম্পদ, যাকে আটকাতে প্রতিপক্ষকে একসঙ্গে একাধিক ডিফেন্ডার ব্যবহার করতে হয়।
নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতির সুযোগ দেখছেন ইয়ামাল। তার মতে, অন্য কোনো খেলোয়াড় একই ধরনের পারফরম্যান্স করলে সেটিকে দারুণ বিশ্বকাপ বলা হতো। কিন্তু তিনি নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানেন বলেই মনে করেন, আরও বেশি কিছু করা সম্ভব ছিল।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, তিনটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একটি কোপা দেল রে। এত অল্প বয়সে এত সাফল্য পাওয়ার পরও তিনি থামতে চান না।
ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিদের প্রসঙ্গ টেনে ইয়ামাল লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, দিয়েগো ম্যারাডোনা ও পেলের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের মতো ইতিহাসে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে তিনি মনে করেন, এখনও অনেক পথ পারি দিতে হবে।
ইয়ামালের মতে, এত শিরোপা জেতার পর কেউ কেউ হয়ত ভাবতে পারেন, তিনি এবার কিছুটা ধীর হয়ে যাবেন। কিন্তু তার লক্ষ্য আরও বড়। ফুটবল ইতিহাসে নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে এখনও অসংখ্য অর্জন বাকি রয়েছে—এমন বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে চান বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন