প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগের ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, বিশেষভাবে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর উপর ব্যাপক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এটি গত ৫ জুনের পর সূচকটির সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই দিন নাসডাকের দর ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে, যা ২৯ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের শীর্ষ সাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে অ্যাপল ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এআই খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফার খবরের পর মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এনভিডিয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, টেসলা ও অ্যালফাবেটের ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে এবং মাইক্রোসফটের ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল ও এএমডির শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ করে কমেছে। ব্রডকমের শেয়ারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত ৬ অক্টোবর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর নাসডাক সূচকটি এখন প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে রয়েছে।
সিপোর্ট রিসার্চ পার্টনার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জে গোল্ডবার্গ আলজাজিরাকে বলেন, "বাজারের ওঠানামায় মৌলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।"
এআই খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি খাতের এই উত্থান কোনো আর্থিক বুদ্বুদের দিকে এগোচ্ছে কি না। ২০০০ সালের ডটকম ধসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও করছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার ও এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন এতটাই বড় যে এই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা রয়েছে।
গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৪ ডলার ২০ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার দরপতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে ২ শতাংশের বেশি কমলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক একপর্যায়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন