প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূলে আরো একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি ভারতের দূতাবাস এবং ওমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
গলফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের শিনাস বন্দরের কাছাকাছি একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এটি পরপর তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা যা ঘটল। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাস, যা মাসকাটে অবস্থিত, তারা এক্সের মাধ্যমে জানায় তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে তারা ওমানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আরও তথ্যের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি।" এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এটি ওমান উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় সামুদ্রিক হামলা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না বা এগুলো পৃথক ঘটনা, এ বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত করছে বলেও খবর এসেছে।
গত ৮ জুন প্রথম ঘটনা ঘটে, যখন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে তখন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগে এবং দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে জানা যায়, ভারতীয় নাবিকদের সবাই নিরাপদে ছিলেন। তবে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।
এরপর ১০ জুন ওমান উপকূলে ‘সেটেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পরে নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ স্বদেশে পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।
ভারত সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক তিনটি সামুদ্রিক ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূল ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাবিকদের সম্পৃক্ততা থাকায় নয়াদিল্লি পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন