প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৃজনশীল, মেধাবী এবং প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ শিশু-কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার কমিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিভাগের সরকারি গণগ্রন্থাগারে আয়োজিত বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ আহ্বান জানান। বক্তৃতায় তিনি বলেন, করোনার সময় অনলাইন শিখন এর প্রয়োজনেই শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোনের ব্যবহার তাদের মনোযোগ, পাঠের অভ্যাস, চিন্তাশক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অভিভাবকদের নিচে সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কীভাবে সময় ব্যয় করছে বিষয়গুলোতে নিয়মিত লক্ষ্য রাখতে হবে। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আড্ডার পরিবর্তে তাদের পাঠাগার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, বই পড়ার অভ্যাস এবং পাঠাভ্যাসভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করার পরামর্শ দেন।
তিনি রাজশাহীকে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও পাঠচর্চাভিত্তিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত পাঠ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতিকর্মী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির উপস্থিত ছিলেন। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সঞ্জীব সূত্রধর স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে রাজশাহী সরকারি গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। অতিথিরা ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন এবং দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন