প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং নিত্যপণ্য আমদানিকারক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তবে, তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধান করা, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, নিত্যপণ্যের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
ব্যবসায়ীরা জানান, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে, এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। তারা উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য আহ্বান জানান।
মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তারা স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। তারা দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম বৃদ্ধি পেলেও, দেশে চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি ও মিল পর্যায়ে উৎপাদন সচল রাখা না গেলে, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে না। তিনি জ্বালানি সংকট সমাধানের পাশাপাশি এলসি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ফুটপাতের হকার ও অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের তদারকির আওতায় আনার আহ্বান জানান কাওরান বাজার কাঁচামাল আড়ৎ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সুজন।
বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থায় পণ্যের হাতবদল কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন।
সভায় বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতারা সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা খুচরা ও পাইকারি বাজার এবং মিলগেটে পণ্যের মূল্য তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানান।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বেসরকারি খাতকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা সভায় জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা এলসি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কথাও তুলে ধরে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিনিধি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি পরিবারের মধ্যে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন যে, এসব উদ্যোগ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশীয় কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে স্বল্পমূল্যে বিক্রির পাশাপাশি টিসিবির সরাসরি পণ্য আমদানি এবং বিকল্প উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সভায় এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের দেওয়া মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ লিপিবদ্ধ করে তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।
তিনি নিত্যপণ্যের বাজারে সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেলের প্রভাব যাতে অযৌক্তিকভাবে না পড়ে, সে বিষয়ে সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য, শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ক্যাব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন