প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরে, বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে ২০২৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দালালচক্রের চার সদস্যকে। রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় আলামত হিসেবে জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার, ১ আগস্ট, দুপুরে রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষার সময় ডিবির একটি বিশেষ দল নজরদারি করছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজন এক পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম (২১) কে যাচাই করা হয়।
পরে তাকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আশরাফুল স্বীকার করেন যে, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। ওই সময় তার হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসা তাজমিলুর রহমান (১৯) কে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ে কর্মরত বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) ও নুরুল ইসলাম (৪৬) এর মাধ্যমে তিনি ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করেন। চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেন।
পরে তার কাছে একজন জাল প্রবেশপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তবে নিয়োগের নিয়ম অনুসারে তিনি কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। এরপরও তিনি ওই জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আশরাফুলের দেওয়া তথ্যে ভিত্তি করে রংপুর নগরীর জাহাজ কম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, আর্থিক লেনদেন ও জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, বাদশা মাসউদ আলম জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন যে, নুরুল ইসলামসহ আরো দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পুলিশ ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এই চক্রটি জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত।
পরে আরপিএমপির কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, 'বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের স্থান নেই। যারা চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন