প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অবস্থিত হলি কেয়ার হাসপাতাল লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান আগামী ৭ দিনের মধ্যে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে হাসপাতালটি সিলগালা করা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে প্রায় ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল আজিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এই সময় তারা হলি কেয়ার হাসপাতাল, ইউনাইটেড ক্লিনিক এবং হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে হলি কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে পারেননি। হাসপাতালটিতে কোনো ল্যাব টেকনোলজিস্ট, পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবিকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। এসব অনিয়মের কারণে হাসপাতালটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৭ দিনের মধ্যে সকল কাগজপত্র বৈধভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, ইউনাইটেড ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকেও ২ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যার পর হলি কেয়ার হাসপাতালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামের অন্তঃসত্ত্বা নারী মনি নামে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের সময় গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে যে, অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির পেট কেটে সন্তান প্রসব না করিয়ে পুনরায় সেলাই দিয়ে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জরুরি মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় সফলভাবে প্রসূতির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। প্রসূতির স্বজনদের দাবি, হলি কেয়ার হাসপাতালের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর শরীরে ৮ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
প্রসূতির ভাই অভিযোগ করে বলেন, বরিশালে নেওয়ার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একবার খোঁজখবর নিলেও পরে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ বা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। বর্তমানে প্রসূতি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নবজাতকের শারীরিক অবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, হাসপাতালটির দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসাসেবার কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। অভিযানের সময় হাসপাতালটি প্রায় রোগীশূন্য অবস্থায় দেখা যায়, যা স্থানীয়দের আস্থাহীনতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জনস্বার্থে হলি কেয়ার হাসপাতালের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনগত শর্ত পূরণ না করলে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন