প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে মার্কিন ডলার বিশ্ববাজারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার, তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর বুধবারও ডলারের দর চাপের মুখে ছিল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেশটির মুদ্রাকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর পরিমাপকারী ডলার সূচক ১০১ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে স্থির ছিল। আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অপরদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৭০১৩ ডলারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার মুদ্রাটির দর তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ ০.৭০১৭ ডলারে উঠেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) ডেপুটি গভর্নর অ্যান্ড্রু হাউজারের বক্তব্য দেশটির মুদ্রার দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি সিটি আয়োজিত এক সম্মেলনে বলেন, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস আগের ধারণার তুলনায় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ’ হয়েছে। তবে আগামী মাসে নীতিসুদ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর বক্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হুতি হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার খবরও বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ঘিরে বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষ হলে এবং জ্বালানির দাম কমতে থাকলে ডলারের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা কমতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে আগামী কয়েক মাসে ডলারের দর কিছুটা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ ও মুদ্রাবাজার বিশ্লেষক ক্যারল কং বলেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল শেয়ারবাজারের মনোভাব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব মার্কিন ডলারের দরেও পড়তে পারে।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল প্রকাশের মৌসুমের মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার জাপানের নিক্কেই ও দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও বেড়েছে।
মুদ্রাবাজারে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর ছিল ১৫৮ দশমিক ৩৩ ইয়েন। ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর ছিল ১.১২২৯ এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ১.৩৩৭৩৫ ডলার। তবে ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির অবনতিশীল আর্থিক পরিস্থিতির কারণে ইউরো নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা থাকায় দেশটিতে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সমন্বয়ে বড় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফরাসি সরকার। গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা মোকাবিলায় নিজেদের পদক্ষেপের ব্যর্থতাও স্বীকার করেছে সরকার।
এদিকে, আগামী বুধবার থেকে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জাপান ব্যাংক মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত জানাবে। বাজারের প্রত্যাশা, তিনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকই আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। একই দিনে নিউজিল্যান্ড ও কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। দেশ দুটির নীতিসুদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারের বিনিয়োগকারীরা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্ববাজারে ডলারের গতিপথ নির্ধারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার, জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন