প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিসরের ১১ বছর বয়সী মিয়া মুহাম্মদ রাগাব ওসমান অসাধারণ একটি কীর্তি গড়েছেন। ৭০টির বেশি বই পড়ে সেগুলোর বিষয়বস্তু আত্মস্থ করে তিনি ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যেখানে মিয়া সেরার স্বীকৃতি লাভ করেন।
বিজয়ী হিসেবে মিয়া ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার পেয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমান। তবে পুরস্কারের বাইরেও, দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের একটি বিশেষ উপহার তাকে ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করে শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এক পর্যায়ে, তিনি নিজের পরিধেয় পোশাকে লাগানো ব্যাজ খুলে মিয়ার মাথায় পরিয়ে দেন এবং স্নেহভরে চুমু দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এই মুহূর্তটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্যে পরিণত হয়।
মিয়ার বাসস্থান মিসরের কাফর এল শেখ প্রদেশ। পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই রয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে ৭০টির বেশি বই পড়েছে এবং বইগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে নিজের উপলব্ধি ও সারসংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি আরবি ভাষায় চিন্তাভাবনা প্রকাশের দক্ষতাও দেখিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় মিয়া জানিয়েছেন, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সে নিজের স্কুলে একটি ছোট গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তার সহপাঠীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বই পড়ার সুযোগ পাবে। তার মতে, "বই মানুষের চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।"
এবারের দশম আসরে রেকর্ডসংখ্যক ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। চূড়ান্ত পর্বে বিভিন্ন দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে, যেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ফিলিস্তিনের গাজাল রাশাদ আদেল তাইয়েম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে সৌদি আরবের রায়ান বিন আদিব আল জাকারি।
মিয়ার এই সাফল্যে মিসরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গত ৪ নভেম্বর, দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান এবং এ সময় তার হাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ‘মেডেল অব এক্সিলেন্স’ তুলে দেন। মিয়ার পরিবার ও শিক্ষকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।
মিয়ার এই অর্জন ১১ বছর বয়সে তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দুবাই সরকারের সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, গালফ নিউজ, দ্য ন্যাশনাল ও মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন