প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃহস্পতিবার জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলেও এর ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায়, গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ২২৩০টায়, প্রধান দ্বীপ হোনশুর ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলীয় সমুদ্রে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কম্পন কয়েকশ মাইল দূরের রাজধানী টোকিওতে অনুভূত হয়ে ছিল। তবে, এ ভূমিকম্পের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জানা যায়, রান্নাঘরের আলমারি থেকে হাঁড়ি-পাতিল পড়ে যায় এবং নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোর কম্পনও জোরালোভাবে অনুভূত হয়।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি রিপোর্ট করেছে। প্রথমে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বললেও পরে এটি সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ মাত্রা নির্ধারণ করে।
সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ৪৪ কিলোমিটার গভীরে।
উত্তরাঞ্চলীয় আওমোরি প্রিফেকচার এলাকার হাশিকামির একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের ৬১ বছর বয়সী কর্মী মুতসুমি শিমোহাতা এএফপিকে বলেন, তার বাসায় একটি ছবির ফ্রেম পড়া ছাড়া আর কোনো ক্ষতি হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম, তখন ভূমিকম্পটি ঘটে। এরপর আমার স্মার্টফোনে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। আমি এতে বিস্মিত হয়েছিলাম। কম্পনটা কিছুটা দীর্ঘ মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে অফিসের স্বয়ংক্রিয় দরজা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। তাই কোম্পানি আমাদের আজ বাড়িতে থাকতে ও প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে বলেছে।’
জাপানি টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, রান্নাঘরের আলমারি থেকে হাঁড়ি-পাতিল মেঝেতে পড়ে যায়। বিভিন্ন দোকানের পণ্যও মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের কারণে কিছু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
হাশিকামির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনএইচকে-কে জানান, ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এনএইচকে জানায়, হাশিকামি ও হাচিনোহে দমকল বিভাগে অন্তত চারটি জরুরি ফোনকল এসেছে। এছাড়া কিছু ব্যক্তির লিফটে আটকা পড়ার ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি আরও জানায়, কয়েকটি জায়গায় দরজা আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং একটি ট্যাংকার ট্রাকও উল্টে গেছে।
জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো হতাহতের তথ্য নেই, তবে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব।’
জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দাবি, অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হয়নি।
এনএইচকের সম্প্রচারে হাচিনোহে শহরে স্বাভাবিক যান চলাচল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল সচল দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তায় বলেন, ‘যেসব এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০১১ সালের ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভয়াবহ সমুদ্রতলীয় ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো জাপানকে তাড়া করে। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং টোকিওর বড় বড় ভবনও কেঁপে ওঠে।
এর পরে কর্তৃপক্ষ ৮ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। তবে এক সপ্তাহ পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন