প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তার একমাত্র চাচা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) তার ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, 'আমার একমাত্র আপন চাচা, মরহুম আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।'
তিনি জানান, ছোটবেলায় এ চাচাই সব আবদার পূরণের একমাত্র মানুষ ছিলেন। চাচা ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'বাবা রাজনৈতিক জীবনে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত ছিলেন। কখন তাঁর দেখা পাব, তাঁর কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। অধিকাংশ সময় এলাকা, জনগণ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন। আবার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি শহরের আহ্বায়ক বা সভাপতি হিসেবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে বাসায় থাকার সুযোগই খুব কম পেতেন।'
তিনি চাচার কোলে-পিঠে বেড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে জানান, 'খেলতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন হারিয়ে যাওয়া ক্রিকেটের টেনিস বল এনে দেয়া, আইসক্রিম, কোক কিংবা ফান্টা কিনে দেয়া, দোকান থেকে ভিডিও ক্যাসেট এনে কার্টুন দেখানো—ছোট ছোট আবদার থেকে বড় সব আবদারই তিনি পূরণ করতেন। বাবার অনুপস্থিতি কোনো দিনই অনুভব করতে দেননি। বরং মাঝেমধ্যে নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন, ফেরার পথে যা খেতে চাইতাম তাই কিনে দিতেন। আরও কত শত স্মৃতি!'
তিনি যোগ করেন, 'আমি সব সময় বলি, আমার শৈশবের স্মৃতিতে বাবার চেয়ে একটি বড় অংশ জুড়ে আছেন উজ্জ্বল কাক্কা—যা আজও ভুলতে পারি না।'
ইশরাক হোসেন লিখেছেন, '২০১৯ সালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে উজ্জ্বল কাক্কাকে, যিনি দুই কিডনি বিকল হয়ে ট্রান্সপ্লান্ট করা একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী ছিলেন, শুধু সাদেক হোসেন খোকার ভাই হওয়ার কারণে বিনা কারণে কয়েক মাস কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বন্দি করে রাখা হয়। ডায়াবেটিসের কারণে তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। তারপরও সব মেডিকেল রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের মতামত উপেক্ষা করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার করা হয়।'
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'ওই বিচারককে কোনো দিন সামনে পেলে দুই হাত কথা বলবে। আইনমন্ত্রীসহ কত আওয়ামী নেতার বাসায় ডাক্তারের ফাইল নিয়ে ধরনা দিয়েছি। যা চেয়েছে, অর্থ দিয়েছি। কিন্তু তাদের মানবিকতা একবারও জাগ্রত হয়নি।'
তিনি বলেন, 'আমরা ঢাকার সন্তান, ঢাকার পোলা। অন্যায়, অবিচার আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বাপ-চাচাদের লড়াই দেখেই বড় হয়েছি। কাক্কার একটি দৃশ্য আজও জ্বলন্ত স্মৃতি হয়ে আছে। দুই পাড়ার স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ বা বিরোধ হলে সাদা প্যান্ট, সাদা শার্ট, সাদা জুতা পরে হাতে হকি স্টিক নিয়ে দিনের আলোতেই রাস্তায় বেরিয়ে যেতেন। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেখতেন না; সব সময় মজলুমের পক্ষেই দাঁড়াতেন।'
তিনি আরও লিখেছেন, 'ওনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা ছোটরা নীতি-আদর্শ রক্ষায় পাহাড়ের মতো অবিচল ছিলাম। খুনি হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, প্রতিবাদী মানুষ এবং নীতিবানদের এমন অসহায় অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই দিনগুলোর স্মৃতি কোনো দিন ভুলতে পারব না।'
ইশরাক হোসেন জানান, 'নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ডেপুটি জেলার জাহিদ অনেক চেষ্টা করেছিলেন কাক্কা কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে। অথচ অন্ধপ্রায়, দুই কিডনি বিকল, একটি ট্রান্সপ্লান্ট করা কিডনি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত—সবকিছু স্পষ্ট মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ থাকার পরও তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হয়নি।'
তিনি বলেন, 'জামিনের আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সেই সময়ের ছোটলোক আইনমন্ত্রী আজ মৃত। তার বিচার মহান আল্লাহ করবেন। আর বিচারকের বেশে থাকা ইমরুল কায়েস নামের সেই জানোয়ারটাকে সামনে পেলে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে। কোনো বড় বিএনপি নেতার সঙ্গ নাকি ঘনিষ্ঠ শুনেছিলাম। ওটাকে শুদ্ধ বাংলা স্টাইল আপ্যায়ন করতে এক সেকেন্ড হাত থামবে না। পরিণতি যাই হোক।'
তিনি বলেন, '২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র আমি ফ্যাসিস্ট, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি হাসিনার ভাইয়ের অযোগ্য ছেলে, ভোট ডাকাত তাপসের বিরুদ্ধে মেয়র নির্বাচন করেছি, তার কিছু মাস পর জুনে করোনার করাল থাবা তাকে গ্রাস করে।'
রাজনীতি রাজপথে শিখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'কয় কেজির সঙ্গে কত কেজি মিশালে কয় ডিব্বা হয়, কোন সাইজে কত সাউন্ড হয়—এসব হাতে-কলমে শিখে উঠে আসা রাজনৈতিক কর্মী আমরা। নেতা একজনই; তার বাইরে কাউকে গোনার টাইম নেই। যার যেটা প্রাপ্য, তাকে সেটা বুঝিয়ে দিয়েই পরের হিসাব যা হোক হবে আমরা সেই ভাবে গড়ে উঠেছি।'
তিনি যোগ করেন, 'তারপর কাক্কা করোনায় আক্রান্ত হলেন। ইউনাইটেড হাসপাতালসহ আরও বড় বড় হাসপাতালেও কোভিড আইসিইউ বেড মিলল না। যে হাসপাতাল ভবনটি একসময় মেয়র খোকার বিশেষ সহযোগিতায় চালু হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের কাছেও তার ভাই কোনো গুরুত্ব পেলেন না। ক্ষমতায় থাকার সময় যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় বসে থেকে কাজ হাসিল করতেন, তারা সবাই বেমালুম ভুলে গেলেন সব কিছু।'
প্রতিমন্ত্রী লিখেন, 'খুনি হাসিনার অনুমতি ছাড়া নাকি আইসিইউ বেডও দেয়া যেত না—এমনটাই শুনতে হয়েছে চরম মিথ্যাবাদী মালিকদের থেকে। সেই সময়ের অসহায়ত্ব কোনো দিন ভোলা যাবে না। এই মনোভাব, এই দৃঢ়তা—ছেলেবেলা থেকে উজ্জ্বল কাক্কাকে দেখেই শিখেছি। আজ মনে হলো, সেই কষ্টভরা অসহায় দিনগুলোর কথা জীবনে অন্তত একবার স্মরণ করা উচিত।'
তিনি শেষ প্যরায় বক্তব্য দিয়ে বলেন, 'সারা দেশে ঘরে ঘরে এমন নির্যাতন সহ্য করে, লড়াই-সংগ্রাম করে আজকের এই দিনে এসে বারবার মনে পড়ে, যাওয়ার শেষ বেলায় কাক্কা বলেছিলেন, 'আমাকে একবার গাড়িতে পতাকা নিয়ে ঘুরাবা না, কাক্কা? হ্যাঁ, মন্ত্রী হয়েছে তো কী হয়েছে? জনগণের কথা বলে যাব, সংগ্রামের ভাষায় বলে যাব। এই শহরের অলিগলিতে আমরা মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে চলি। তোমরা চলো তো?'.
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন