প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইতালিতে বৈধ স্পন্সর ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের যুবক মাসুম আকনকে (২৫) লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের আশায় দালালদের হাতে প্রায় ৩১ লাখ টাকা তুলে দিয়েও শেষ পর্যন্ত সন্তানের লাশের অপেক্ষায় দিন কাটছে বৃদ্ধা মা কুট্টি বিবির।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকার মৃত করিম সরদারের ছেলে দেলোয়ার সরদার, তার স্ত্রী সোহাগী বেগম এবং দালাল সুমন সরদার ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসুম আকনকে বৈধ স্পন্সর ভিসায় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর ভিসা হয়েছে জানিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা এবং বিমান ভাড়া বাবদ ১ লাখ টাকা অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
এরপর ৭ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হন মাসুম। পরদিনই দালালরা পরিবারকে জানান, তিনি ইতালিতে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু প্রায় ১০ দিন পর ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাসুম জানান, তাকে ইতালিতে নেওয়া হয়নি। সৌদি আরব ও মিশর হয়ে তাকে লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে।
মাসুমকে মুক্ত করতে পরিবারের কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে দালালরা। উপায়ান্তর না দেখে ১৮ সেপ্টেম্বর নড়াইলের ইসলামী ব্যাংকের ‘মরিয়ম ট্রেডার্স’ নামের একটি হিসাবে আরও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাঠায় পরিবার। এতে মোট ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবার ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মাসুমের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে দালাল চক্রের নির্দেশে লিবিয়ায় মাসুমকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ও মাসুমের লাশ ফেরত চাইলে পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে মাদারীপুরের মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের পরিবার।
মামলার আসামিরা হলেন—সুমন সরদার, দেলোয়ার সরদার, সোহাগী বেগম, সিমু আক্তার ও শফিকুল ইসলাম।
মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই মামুন আকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ধার-দেনা ও সুদে টাকা এনে দালালদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম ভাইটাকে বাঁচানোর জন্য। তারা টাকাও নিল, আবার আমার ভাইটাকেও মেরে ফেলল। আমি এই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। একই সঙ্গে আমার ভাইয়ের লাশ যেন দেশের মাটিতে এনে দাফন করতে পারি, সে বিষয়ে সরকারের জোর সহযোগিতা চাই।”
মানববন্ধনে নিহতের বৃদ্ধা মা কুট্টি বিবি, ভাই মামুন আকন ও আজিজুল আকনসহ স্থানীয় শাহ আলম মাতুব্বর, খবির আকন এবং খোয়াজপুর ইউনিয়নের শত শত মানুষ অংশ নেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানবপাচার মামলায় দেলোয়ারসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন