প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে এই পর্যন্ত অনুমোদিত ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমানে ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ একটি সমন্বিত তহবিল কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত ৪০০ কোটি টাকার ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ এবং ৩০০ কোটি টাকার ‘কো-ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ও।
তিনি জানান, স্টার্টআপ অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার পর্যায়ক্রমে মোট তহবিলের আকার এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, প্রাথমিকভাবে স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য ৫৫টি স্টার্টআপ অনুমোদন পেয়েছিল। তবে যথাযথ যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও বিনিয়োগের শর্তাবলির বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে পরবর্তী সময়ে ১৯টি স্টার্টআপ বাদ পড়ে যায়।
চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ৩৬টি স্টার্টআপের মধ্যে রাইড-শেয়ারিং, এডটেক, ফিনটেক, লজিস্টিকস, হেলথটেক এবং ই-কমার্স খাতের বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঠাও লিমিটেড, চালডাল লিমিটেড, ১০ মিনিট স্কুল, সহজ, শিখো, মেডইজি এবং আরও কিছু উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিনিয়োগ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এর ফলে সাত হাজারের অধিক প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং পোর্টফোলিওভুক্ত কোম্পানিগুলোর গড় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া এসব স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ১৮০ কোটি টাকারও বেশি কর পরিশোধ করেছে, যা স্টার্টআপ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ।
মন্ত্রী জানান, পোর্টফোলিওভুক্ত কোম্পানিগুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে এবং টেকসই ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী মোট বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে, স্টার্টআপ বাংলাদেশ সরাসরি ঋণ প্রদান করে না। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে ইক্যুইটি ও ইক্যুইটি-সংযুক্ত বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।
দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর অর্থায়ন ঘাটতি দূর করতে সরকার বিশেষায়িত অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন