প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে, তবুও এটি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিকটে থাকবে। ফলে, নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, দুটি বাজার এবং তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী কাচকোল বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। পিচিং করা ব্লক দেবে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের উত্তর নামাজের চরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এই এলাকায় ১৫টি বসতভিটা এবং ১৬ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উত্তর নামাজের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ বাজার এবং আনন্দ বাজার। স্থানীয় জনগণ ভাঙন রোধের দাবিতে কয়েকদিন আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত এক মাসে জাহাজের আলগা চরের অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, দই খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ঝুঁকির সম্মুখীন।
এদিকে, দুধকুমারের ভাঙনে সদর উপজেলার যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ভগবতিপুর, নাগেশ্বরীর চর নারায়নপুর এবং ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়ায় ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ধরলার ভাঙনে সারডোব ও চর বড়লই এলাকায় আবাদী জমি বিলীন হচ্ছে। তবে, বাড়িঘর ও স্থাপনা ছাড়া জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিস্তার ভাঙনে রাজারহাট উপজেলার পলাশপুর গ্রামের বিস্তৃত আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় জনগণ গাছের ডাল ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। এখানে নদীর কিনারে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি বাড়ি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০টি পয়েন্টে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন