প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের শত শত কৃষক প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছেন। তারা পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু হরিয়ানায় প্রবেশের পথে শম্ভু সীমান্তে পুলিশ তাদের আটকিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ঘটনা জানা যায়, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড স্থাপনের ফলে ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে। ঠিক সে সময়ও রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্ত এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যাতায়াতের সুযোগ না পেয়ে কৃষকেরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশে অংশ নেন। এখানে তারা দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের জন্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারকেই অভিযুক্ত করেন।
বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং)-এর নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ ঠেকানোর পরিবর্তে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
যদিও পাঞ্জাবের কৃষকদের আটকে দেওয়া হয়েছে, তবে হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জেলার স্থানীয় কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত কিসান মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশগ্রহণ করছে। তাদের মূল দাবি হচ্ছে, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।
কিসান মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, তারা পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত শম্ভু সীমান্তেই তাদের আটকে দেওয়া হয়েছে।
পান्धের আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশেই ওই বছরের শরতের মধ্যে বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তার দাবি, এই চুক্তি শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব এবং সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কৃষক নেতাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। তারা বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি ও মৎস্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার দাবি বারবার তুলেছে।
কৃষক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তারা অভিযোগ করেন, চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতে প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। যদি এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
এ কারণে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তারা কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন