প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিবাদসভায় অংশগ্রহণ করে।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠা করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড়া দেওয়া হবে না।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায় লোকসভার বিরোধী নেতাকে, রাহুল গান্ধী। তাঁর এক্স-এ দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে এবং তিনি দায়ীদেরও রক্ষা করেছেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন—শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
এদিকে, মোদির আশ্বাসের পরও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের চেয়ে পুরো দিল্লি অচল করে দিতে সরকার বেশি আগ্রহী।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভণ্ডুল করার জন্য বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে বিশৃঙ্খলা ও উসকানি সৃষ্টি করছে। এর আগে, বুধবার গভীর রাতে যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পরেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের যন্তর মন্তরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। সূত্র: দ্য হিন্দু।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন