প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংস্কারের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নোয়াখালীর চাটখিল-খিলপাড়া সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। ঠিক তার আগেই সড়কটির সংস্কারকাজ হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগে এখনও কাজটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এদিকে সড়কটি সবদিক থেকে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন যুক্ত পাথরের কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের পাশের অংশ ধসে পড়েছে।
নোয়াখালী একটি জায়গায় আট কোটি টাকা খরচে সম্প্রতি সংস্কার করা চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে, এ দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে চাটখিল-খিলপাড়া সড়কটি ব্যবহার অযোগ্য ছিল, যার কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল যে, একটি ভাল মানের সড়ক নির্মাণ হবে, কিন্তু সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের চাটখিল উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা গেছে, সড়কের সাত কিলোমিটার অংশে সংস্কারের কাজটি পান ঠিকাদার মোরশেদ আলম, যার জন্য বরাদ্দ ছিল সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেননি এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। এই কারণে মাত্র দুই মাসের মধ্যে সড়কটি বেহাল হয়ে গিয়েছে। সঠিক সময়ে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণও হয়নি। বিটুমিনের পরিমাণে কম এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের অনেক জায়গায় ফেটে গেছে এবং নিম্নমানের বিটুমিনযুক্ত পাথর উঠে আসছে। অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ধসে পড়েছে। কার্যাদেশ অনুসারে বিটুমিনের পাথরের ৪০ মিলিমিটার ঢালাইয়ের জায়গায় দেওয়া হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার। নির্মাণের পর থেকেই গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক স্থানে পুনরায় বালি ও পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সড়কের পাশের ধসে পড়া অংশগুলো বালুর বস্তা ও কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
ছয়ানী টবগা গ্রামের কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে বিটুমিন পাথর এনে এখানে কাজ করা হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করার কারণেই সড়কটি সমস্যায় পড়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।'
অটোরিকশাচালক হান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ভাঙা সড়ক নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তিনি এও জানান যে, সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তাই নির্মাণের মান, তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ঠিকাদার মোরশেদ আলম বলেন, সড়কটির কাজ এখনও শেষ হয় নি এবং সমস্যা যেসব জায়গায় দেখা দিয়েছে, সেগুলো অবশ্যই তিনি ঠিক করে দেবেন।
সড়ক ও জনপথের চাটখিল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, সড়কে যে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা তাদের নজরে রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেই এসব সমস্যার সমাধান করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম সড়কটির দূরবস্থার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিডিউল অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন