প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের লালপুরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানের মধ্যে দুই সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার পরেই তাদের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে hospital এ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
মৃত দুই শিশু হলো- তুহিন (৮) এবং তার ছোট ভাই তুষার (৪)। তারা উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুন পাড়া গ্রামের মরজেম আলী (৩৫)-এর সন্তান।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে গত ১৩ জুলাই মরজেম আলীর স্ত্রী তুলি বেগম বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে মরজেম আলী তার দুই ছেলেকে নিয়ে একাই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ১৬ জুলাই রাতে, মরজেম আলীর বড় ছেলে তুহিন কলা-চিড়া এবং মরজেম আলী ও তার ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমাতে চলে যায়। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ তুহিন বমি করা শুরু করে, তখন তার বাবা প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন সকালেই তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে, বড় ছেলের দাফনের দিন দুপুরে ছোট ছেলে তুষারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি ও অচেতনতার উপসর্গ দেখা দিলে তাকেও দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে, ওইদিন রাতেই তার চিকিৎসা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তুষারের মৃত্যু ঘটে।
সকালে ছোট ছেলের মরদেহ বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই বাবা মরজেম আলীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ১১টায় হঠাৎ তিনি অচেতন হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে, তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু এবং এরপরই তাদের বাবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। ছোট ছেলে তুষারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে দুই সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন