প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট সরাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অব্যাহত উচ্ছেদ অভিযানের উপরে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরার সচেতন মহল এবং পথচারীরা। তবে অভিযানের পরবর্তী সময়ে মনিটরিং না থাকায় তারা অভিযোগ করছেন যে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুটপাত আবার দখল হয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল থেকে ডিএনসিসি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ রোড, বিডিআর বাজার এবং হাউজ বিল্ডিং থেকে সোনারগাঁও জনপদ রোডের ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ফুটপাতের দখলকৃত অস্থায়ী দোকানপাটের মালামালও জব্দ করা হয় এবং জরিমানা করা হয়।
পথচারীরা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ফুটপাতের এই অভিযান যেন ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে সরকারের পক্ষে হাজার হাজার টাকা খরচ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক শেল্টারের মাধ্যমে জায়গাটি পুনরায় দখল হয়ে যায়।
পথচারীরা জানান, মাত্র দুই দিন আগে আমির কমপ্লেক্স থেকে রাজলক্ষী সড়কে ফুটপাত দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এতে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাও হয়েছে। তারা জানান, অভিযানের পর কার্যকর মনিটরিং না থাকার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার ফুটপাত দখল করে। শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়; বরং এরপর যেন কেউ পরবর্তীতে দখল করতে না পারে—সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পথচারী _ইনকিলাব_কে জানান, সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনা করার সঙ্গে সঙ্গেই অসাধু পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাধ্যমে খবর দোকানদারদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে দোকানদাররা আগেই তাদের মালামাল সরিয়ে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অভিযানের বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখলে অবৈধ দোকানের উপস্থিতি এবং জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
অভিযানের সময় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বিরুদ্ধে দোকানের মালামাল লুটপাট এবং টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ময়লার মোড় ফার্নিচার মার্কেটের একজন দোকানদার অভিযোগ করেছেন যে, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন তাকে মারধর করে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং পরবর্তীতে ৫ হাজার টাকার জরিমানা স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে।
এই সব অভিযোগ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ময়লার মোড় এলাকার দোকানদার ও পথচারীরা মনে করছেন, অভিযানের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে রাখা উচিত এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডিক্যাম থাকা প্রয়োজন। বডিক্যাম থাকলে অভিযানের পুরো দৃশ্য রেকর্ড হবে এবং অসাধু কর্মকর্তারা অনৈতিক কাজ করতে পারবেন না।
বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে যখন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আকতার এবং প্রধান ভূমি কর্মকর্তা শওকত ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন তারা ফোন রিসিভ করেননি।
পথচারী ও স্থানীয়দের মনে করা হচ্ছে যে, ফুটপাত উদ্ধারের অভিযানগুলোর পাশাপাশি কঠোর মনিটরিং, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে জনভোগান্তি কমবে এবং ফুটপাত দীর্ঘমেয়াদে দখলমুক্ত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন