প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এআই ছাড়া মানুষ যেন ‘অদক্ষ বানর’, খোঁচা ইলন মাস্কের
কিছু জনপ্রিয় এআই সেবা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হঠাৎ করে অনেক ব্যবহারকারীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়া কাজ করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক রসিকতা করেছেন।
টুডের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, চ্যাটজিপিটি, ক্লদ এবং গ্রক—এই তিনটি জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মে সাময়িক বিভ্রাট দেখা দেয়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারীকে এআই সহায়তা ছাড়া কাজ করতে বাধ্য হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মজার প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে মাস্ক একটি ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করে মানুষের এআই-নির্ভরতা নিয়ে মজা করেন।
মাস্ক এক্সে একটি ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ওরাংওটাং পাথর দিয়ে পেরেক ঠোকানোর চেষ্টা করছে। কাঠমিস্ত্রির মতো কাজ করার চেষ্টা করলেও প্রাণীটি বেশ অদক্ষ ও তালগোল পাকানো অবস্থায় রয়েছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে মাস্ক লেখেন, ‘ভবিষ্যতের এআইয়ের চোখে মানুষ কোড লিখছে।’
অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এআই এত উন্নত হয়ে উঠতে পারে যে মানুষের হাতে কোড লেখার বিষয়টিকে তারা অদক্ষ ও পুরনো পদ্ধতি হিসেবে দেখবে—এমনটাই রসিকতা করেছেন তিনি।
এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর সাময়িক বিভ্রাটের কারণে অনেক ব্যবহারকারীকে নিজেদের স্বাভাবিক কাজ নিজেরাই করতে হয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা নিয়মিত কোড লেখা, ভুল খুঁজে বের করা ও বিভিন্ন কাজের জন্য এআইয়ের সাহায্য নেন।
লেখালেখি, তথ্য খোঁজা কিংবা বিভিন্ন ধরনের কাজেও বর্তমানে এআই সহকারী ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে।
ফলে, হঠাৎ এসব সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে নিজেদের নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ এমন মজাও করেছেন যে, এআই ছাড়া কোড লিখতে থাকা মানুষকে যেন প্রকৃতির মধ্যে কাজ করা কোনো প্রাণীকে পর্যবেক্ষণের মতো দেখাচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও গ্রক একই সময়ে সমস্যায় পড়লেও তিনটি সেবার বিভ্রাটের পেছনে একই কারণ ছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে ত্রুটির হার বেড়ে গিয়েছিল। পরে সমস্যাটি শনাক্ত করে সমাধান করা হয়।
অ্যানথ্রপিকও ক্লদের কয়েকটি মডেলে ত্রুটির কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি পরে সমস্যার সমাধান করে।
অন্যদিকে, গ্রকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই জানিয়েছিল, তাদের সেবাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর সেটি স্বাভাবিক হয়।
অর্থাৎ, তিনটি প্ল্যাটফর্ম একই সময়ে সমস্যায় পড়লেও একটি অভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সবগুলো বন্ধ হয়েছিল—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
এই ঘটনা কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিভ্রাট নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতাও সামনে এনেছে।
এখন সফটওয়্যার তৈরি থেকে শুরু করে লেখালেখি, তথ্য অনুসন্ধান এবং নানা ধরনের সৃজনশীল কাজেও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে, এআই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেই কিছু কাজ আগের তুলনায় কঠিন মনে হতে পারে।
ইলন মাস্কের মন্তব্য তাই কেবল একটি রসিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন