প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চর এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিপদ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ দশমিক ০৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, গবাদি পশুর খাদ্য সংকটের কারণে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে চরের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর আখক্ষেত, সাত হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
শনিবার সরজমিনে পদ্মার চর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফসলি জমিগুলো সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে গেছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু ওপরের অংশ পানির ওপর জেগে আছে। অনেক স্থানে নতুন রোপণ করা মূলা ও বেগুন গাছও পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, তবে পানির তীব্রতায় এটি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পানির বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুরে পদ্মার চরের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘হঠাৎ অস্বাভাবিক পানিবৃদ্ধিতে আমার দুই বিঘা জমির মূলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো চার বিঘার মূলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে।’
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি। বন্যার পানিতে চরের জমি ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই। মহিষকে এখন শুধু শুকনো খড় আর পানি খাওয়াচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘চর এলাকা পরিদর্শন করেছি। পদ্মায় পানিবৃদ্ধির কারণে চর এলাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।’
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানিবৃদ্ধি এবং চরের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন