প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যেকোনো মূল্যে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে, এই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেন, যেখানে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার এবং রংপুর জেলা মহানগরের দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকগুলো পরিচালনা করছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনিশ্চিত করার জন্য শনিবার যেকোনো মূল্যে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে বলেও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন হবে নিখুঁত এবং মিমাংসারের কোনো সুযোগ বরাদ্দ নেই।
এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনে ভুলের পরিবর্তে শিক্ষা নিয়ে আগামীর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়। এর পাশাপাশি, স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতারা যাতে একক প্রার্থী নির্বাচন করেন, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
দলকে তৃণমূল পর্যায় আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিন গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলের দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের প্রতি নেতাকর্মীদের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিএনপি প্রধান।
দায়িত্বশীল নেতাদের মাঝে আলোচনা করা হয়েছে যে, দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগে চেয়ারম্যান তৃণমূলের নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক অবস্থা অবগত হচ্ছেন। স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলের সুসংগঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় তিনি করেছেন। সরকারের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগে দেশ এবং দলের জন্য ত্যাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতির মাঠে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য তরুণদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবীব দুলু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, শামীম কায়সার লিংকন এমপি, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।
সভায় অংশ নেওয়া গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন মন্তব্য করেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক সভা, যেখানে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দলকে কীভাবে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখা যায় এ বিষয়টি কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূলে বিএনপির নেতারা আলোচনা করবেন যাতে তারা একক প্রার্থী ঠিক করতে পারেন। অতীতে যে ভুলগুলো ঘটেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই দলের একাধিক প্রার্থী থাকতে পারবে না।
এছাড়া, ১৯ জুলাই রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, এবং দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারাবাহিক এ সভার উদ্দেশ্য হলো দলীয় কোন্দল নিরসনের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করা, মূল দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে পুনর্গঠনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য দল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিলুপ্তি এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এটি মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই বিএনপি চেয়ারম্যান কাজ করছেন। চলতি মাসের শুরুতে ৪ জুলাই শনিবার গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন