প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা খরার কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু রয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানির স্তর আরও কমে যাবে এবং উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, তার সাথে সঙ্গেই আরও একটি ইউনিট বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর থাকার কথা ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৯১ ফুটে। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় পানির স্তর ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট চালু ছিল। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩২ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু রেখে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে হ্রদের পানির স্তর আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অনুভব করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘকাল পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি নেমে যেতে পারে, যার প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সাথে এলাকার পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও পড়বে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় দেশের বৃহত্তম ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন