প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সীরহাট বাজারের এলাকায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক পশু জবাইখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে এই জবাইখানার উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন এবং জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম. এ. জলিল, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান আহমদসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জবাইখানার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সেখানে একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রদর্শনীতে একটি গরুকে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে জবাই ও চামড়া ছাড়ানোসহ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তা অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়।
প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর চালু হওয়া এই জবাইখানা জেলার নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রায় ৪০ শতক সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই জবাইখানায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় জবাই শেড, মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজিং ও চিলার ইউনিট, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বর্জ্য থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং ক্ষুদ্র বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এই জবাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু অথবা ৩০টি ছাগল খুব সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম পর্যায়ের ঠিকাদারের ধীরগতি ও কাজের মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন