প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবী করছে, ওই বিমানের প্রধান পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
গত ৪ আগস্ট, ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ নম্বর বিমানটি আকাশে চলার সময় হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যায়। এই ঘটনায় ২০ জন যাত্রী ও চারজন কেবিনকর্মী আহত হন। শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, ঝাঁকুনির কারণে এমনটি ঘটেছে।
তবে ঘটনার পর বিমানের চালকদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক না আসায় প্রধান পাইলটের আরও পরীক্ষা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিশ্চিত পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার সব ধরনের কারিগরি, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয় খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় প্রধান পাইলট স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিমান চালানোর কক্ষে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং নিজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলেন না। এমনকি তাকে সহায়তা করে আসনে বসাতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার সময় প্রধান পাইলট সহকারী পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে বিমানটি এমন অবস্থায় পড়ে, যেখানে ভেতরে থাকা কিছু বস্তু ও মানুষ উপরের দিকে উঠে যায়। যারা আসনের নিরাপত্তা বেল্ট বাঁধেননি, তাদের কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার সময় তরুণ সহকারী পাইলট একাই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিমানটি নিরাপদে গন্তব্যে নামান বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিমানটি কেন হঠাৎ নিচে নেমেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সহকারী পাইলট তার প্রতিবেদনে কয়েকটি বিরল কারিগরি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রধান পাইলটের আচরণও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার পর ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মাদক গ্রহণ সম্পর্কিত পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন