প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীলঙ্কার পর ইংল্যান্ডকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংলিশদের ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। এই ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কাড়েন আরাফাত মিনহাস। তিনি এমন একটি রেকর্ড স্থাপন করেছেন, যা ক্রিকেটের ৫৫ বছরের ইতিহাসে আর কেউ করতে পারেনি। তরুণ অলরাউন্ডারের কল্যাণে পাকিস্তানের বড় জয় সহজ হয়ে ওঠে।
পাকিস্তান অবশ্য ইংলিশদের বিরুদ্ধে বিপদে পড়েছিল। ১৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। তখন সাতে ব্যাট করতে নামেন মিনহাস। তিনি ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন। এই ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইনিংসটি খেলতে গিয়ে তিনি হাসান নওয়াজের সঙ্গে সঙ্গ দেন। হাসান ৭৪ বলে ৭৯ রান করে পাকিস্তানকে বড় পুঁজি এনে দেন। হাসানের বিদায়ের পর ফাহিম আশরাফের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মিনহাস। এর ফলে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দল ৩০২ রানের বিশাল স্কোর গড়ে।
মিনহাস পরবর্তীতে বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৩০৩ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড এক পর্যায়ে ১ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তারা আর ৯৫ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে যায়। এই সময় মিনহাস তার কারিশমা দেখান। তিনি একে একে ৬টি উইকেট তুলে নেন। প্রথমে উইকেটে দারুণভাবে সেট হয়ে থাকা টম ব্যান্টনকে (৫৭) আউট করেন। এরপর হ্যারি ব্রুক (৫), জর্ডন কক্স (১৮), উইল জ্যাকস (১৯), জেমি ওভারটন (১) ও আদিল রশিদ (০) কে আউট করেন।
পাকিস্তানের হয়ে এটি মিনহাসের মাত্র পঞ্চম ওয়ানডে। ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। নিজের অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিলেন, এবার ইংলিশদেরও গুঁড়িয়ে দিলেন।
এবার তিনি একটি রেকর্ডও গড়লেন। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে ছয় উইকেট ও হাফ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন। পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তবে তার কীর্তি বিশেষভাবে অনন্য, কারণ তার বয়স। তিনি এই রেকর্ডটি গড়লেন মাত্র ২১ বছর ২৯১ দিন বয়সে। এই তালিকায় থাকা পূর্ণ সদস্য দেশের সকল খেলোয়াড়ই এই কীর্তিটি গড়েছেন অন্তত ২৬ বছর বয়সে।
তালিকায় তার পরবর্তী অবস্থানে আছেন স্কটল্যান্ডের জশ ডেভি। তিনি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ৫৩* রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৪ বছর ১৬৪ দিন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার আছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে লাহোরে ৫৪* রান ও ৬ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর ৬৩ দিন।
আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রেটার নয়ডায় ৯৫ রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৬ বছর ১৯৫ দিন। নিউজিল্যান্ডের স্কট স্টাইরিস ২০০২ সালে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৬৩* রান ও ৬ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর ৩৩৭ দিন।
ইংল্যান্ডের পল কলিংউড ২০১৫ সালে নটিংহামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১১২* রান ও ৬ উইকেট নেন। তার বয়স ছিল ২৯ বছর ২৬ দিন। সবচেয়ে বেশি বয়সে এই কীর্তিটি গড়েছেন শাহিদ আফ্রিদি। ২০১৩ সালে প্রভিডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি ৭৬ রান করেন ও ৭ উইকেট নেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৩ বছর ১৩৫ দিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন