প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিতর্কিত একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। দলের সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ‘ইশরাক কাণ্ড’-এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক অদক্ষতা ও ব্যর্থতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আখতার হোসেন বলেন, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই ইশরাক কাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের ব্যর্থতা ও অকার্যকর রূপ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
বিতর্কিত সংবিধান সংশোধন কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবিধানের সঙ্গে চরম অসংগতিপূর্ণ এবং গণভোটের গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে এই একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সাংবিধানিক সংকট সুরাহা করার কোনো রাজনৈতিক বা আইনি ক্ষমতা এই কমিটির নেই। এই সংবিধান সংশোধন কমিটির কোনো জাতীয় ভিত্তি নেই, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই এবং দেশের রাজনৈতিক ঐকমত্যের দিক থেকেও এর কোনো বৈধতা নেই। এটি দেশে নতুন করে আরও বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে যে, এই একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর মাধ্যমে সাংবিধানিক জটিলতাগুলো নিরসন করতে হবে। বিরোধী দলের অসহযোগিতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা এই অবৈধ কমিটিকে কোনোভাবেই সহযোগিতা করব না।" কারণ জনগণের ম্যান্ডেট বা গণভোটের কোনো সমর্থন এতে নেই। একদলীয় সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সরকার একতরফাভাবে এটি চাপিয়ে দিচ্ছে।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী বা নেতাদের পদত্যাগ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে বলেন, অস্ত্র উঁচিয়ে রাস্তায় নামার পর তিনি (ইশরাক) নিজেই স্বীকার করেছেন যে পুলিশ ও রাষ্ট্র এখানে ব্যর্থ, তাই তাকে অস্ত্র নিতে হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশীয় মাদক নির্মূলকারী সংস্থাগুলো পুরোপুরি অকার্যকর। অবৈধ মাদক সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকে পড়ছে, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরব দর্শক।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ইশরাকের এই পদত্যাগের ঘটনা দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি বোঝা যায় না। এটি কি কেবল অস্ত্র প্রদর্শনী, নাকি ক্ষমতাসীন দল বা জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল- তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন জেগেছে। কেবল দু-একটি পদত্যাগ করিয়ে নিজেদের ইমেজ উজ্জ্বল করার চেষ্টা বা ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা এক ধরনের ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো নাটক মাত্র।
সরকারের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, "উটপাখির মতো বালুতে মাথা গুঁজে দেশের মূল সংকটগুলোকে আড়াল করা যাবে না।" সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করা, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চরম ব্যর্থতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর রূপরেখা বাস্তবায়ন করার দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন