প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের রেশ এখনো কাটেনি। তবে তার আগেই ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন মহারণের দিকে, যা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। নকআউট পর্বের টাইব্রেকারে নিজের নেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে জেতানোর পর সাবেক লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহর আনন্দ ছিল দেখার মতো। গত দুটি গুরুত্বপূর্ণ টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করা সালাহ ডালাসের সেই রোমাঞ্চকর জয়কে তার জীবনের অন্যতম সেরা দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে সালাহ মুচকি হেসে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে, কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তি।
আটলান্টায় মঙ্গলবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রথম দেখা থাকবে, তবে ক্লাব ফুটবলে এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল ২০১৯ সালের সেমিফাইনাল, যেখানে কাম্প ন্যূ-তে প্রথম লেগে লিভারপুল ৩-০ ব্যবধানে হারলেও ফিরতি লেগে অ্যানফিল্ডে রূপকথা লিখেছিল। যদিও ইনজুরির কারণে সেই বিখ্যাত ৪-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে সালাহ মাঠে ছিলেন না, তবে গ্যালারিতে তার 'নেভার গিভ আপ' লেখা টি-শার্ট পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
লিওনেল স্কালোনির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রুখতে মিশরের এখন ঠিক সেই ধরনের আত্মবিশ্বাসেরই প্রয়োজন। তবে মিশরের জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা শুধু মেসিকে নিয়ে ভাবছেন না। লিভারপুলের হয়ে ২৫৭ গোল করা সালাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের যদি মেসি থাকে, তবে তাদের দলে আছেন মোহাম্মদ সালাহ এবং মাঠের বাকি খেলোয়াড়রাও একেকজন মেসির মতোই লড়বেন।
গ্রুপ পর্বে ইরানের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার পর তড়িঘড়ি করে মাঠে ফেরা সালাহর শারীরিক অবস্থা নিয়ে অবশ্য কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। তবে রবিবার সকালে আটলান্টার রাস্তায় সতীর্থদের সাথে তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর আর্জেন্টিনা দলও আটলান্টায় পৌঁছেছে। আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড সার্জিও অ্যাগুয়েরো এই অল্প সময়ের ব্যবধানে ভ্রমণ ও ম্যাচ খেলা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, কেপ ভার্দের চেয়ে মিশর শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আক্রমণে তাদের মান অনেক উন্নত, যা আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। মিশরের তরুণ তুর্কি হামজা আবদেলকরিমকে সালাহর যোগ্য উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে, যিনি মাঠ ও মাঠের বাইরে সালাহর কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন।
আরেকদিকে মিশরের ফুটবল ভক্তদের জন্য আরেকটি বড় খবর হলো, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সালাহ জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন এবং হোসাম হাসানই কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন। গত ১ জুলাই লিভারপুলের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার পরবর্তী ক্লাব এখনো নিশ্চিত না হলেও সৌদি প্রো লিগ বা ইউরোপের কোনো শীর্ষ ক্লাবে তাঁর যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। ইনজুরি আর ক্লাবের চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও সালাহ চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন। যোগব্যায়াম ও কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলা সালাহ ৩৯ বছর বয়সী মেসির মতোই আরও দীর্ঘদিন ফুটবল খেলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নিজের ম্যানেজারের করা জাতীয় দলের সর্বোচ্চ ৬৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে সালাহর আর মাত্র একটি গোল প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর হারানোর কিছু না থাকা মিশর এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন