প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যখন সারাদেশে সারের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে সেই সময় একটি প্রভাবশালী মহল জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাগড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে একটি সারের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার মৌজা ভাগড়া ২য় খন্ড জেএল নং- ২২৮, আরওআর- ১১৭, বিআরএস- ১৩৯ নং খতিয়ানভুক্ত পর্চার আরওআর ২২নং দাগ, বিআরএস ৪১৮নং দাগ এর ১৯২ শতাংশের কাতে যাহার উত্তরে- বাসু, তৎদক্ষিণে- ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য মিনিতা, পূর্বে- কাঁচা রাস্তা, পশ্চিমে- ৩২ ফুট ৮ ইঞ্চি তৎ পশ্চিমে- মিনিতা এই চৌহুদ্দির মধ্যে ০৬ শতাংশ ভূমি ১ম শ্রেণির মাজিষ্ট্রেট-নোটারী পাবলিক কার্যালয়, জামালপুরের মাধ্যমে গত ১৭/০১/২০২৬ইং তারিখে ৪ লক্ষ টাকা জমির দাম নির্ধারণ করে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বায়না দলিলমূলে ভাগড়া গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম খানের পুত্র মোঃ কামরুজ্জামান একই গ্রামের অকিল হাউই এর কন্যা নির্মলা দালবত এর কাছ থেকে ক্রয় করে নেন। বাকী ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে জমি লিখে নেওয়ার কথা ছিল। উক্ত বায়না দলিলে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন, সবিতা, মিনিতা, জানেশ গং। কিন্তু উক্ত জমি নির্মলা দালবত লিখে না দিয়ে উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় গত ২৮ আগস্ট কামরুজ্জামানের সারের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে দেয়। এতে করে বিপাকে পরেন স্থানীয় প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক। উল্লেখ্য, নোটারী পাবলিকের আগেও নির্মলা দালবত মোঃ কামরুজ্জামানকে একটি বায়না দলিলও প্রদান করেন। যেখানে তিনি নগদ ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সেই দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মিনিতা গং। উক্ত বায়না দলিলটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন, সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মহুরি মোঃ আশরাফ আলীর পুত্র মোঃ আবুল কালাম আজাদ। বায়না দলিল করে মোঃ কামরুজ্জামান উক্ত জমিতে একটি দোকান দিয়ে সারের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নির্মলা দালবত জমি লিখে না দেওয়ার কারনে গত ২৭ আগস্ট শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। লিখিত অভিযোগ পেয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ মিয়া নির্মলা দলবতের নিকট অভিযোগের বিষয়ে সমন পাঠান এবং ০৩ সেপ্টেম্বর উক্ত সমনের জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সমন জারি হওয়ার পর নির্মলা দালবত ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২৮ আগস্ট মোঃ কামরুজ্জামানের সারের দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কামরুজ্জামান। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কামরুজ্জামানকে হত্যা ও গুমের হুমকি দেয়। যার কারনে কামরুজ্জামান গত ৩০ আগস্ট জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যার নং- ২১০৫। সাধারণ ডায়েরী করার পর তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে কামরুজ্জামানকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে। নিরুপায় হয়ে গত ০১ সেপ্টেম্বর জামালপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন কামরুজ্জামান। এ বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, আমি নির্মলা দালবতের নিকট থেকে বায়না সূত্রে জমি ক্রয় করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। তারা আমাকে জমি লিখে দিচ্ছে না। যার কারনে আমি ইউপি পরিষদে আবেদন জানাই। আবেদন করার পর তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেয় এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ নিয়ে জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা অমান্য করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা সহ গুম করার হুমকি দেয়। যার কারনে পরবর্তীতে আমি পুলিশ সুপারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন