প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাসহ ৩০টির বেশি দেশ বুধবার ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে নিন্দা প্রকাশ করেছে। এই একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে যাতে ভিন্নমত দমন করতে সক্ষম হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকসহ, এই দেশের প্রতিনিধিরা ইরানে 'বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডের নিয়মিত ব্যবহার' এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের কথা জানিয়েছে।
প্যারিস থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থাটি এই খবরটি প্রচার করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ভিন্নমত দমন, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং মানবাধিকার প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'
এছাড়া আরো উল্লেখ করা হয়েছে, 'ইরানের জনগণকে ভয় ছাড়াই তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।'
প্রাথমিকভাবে এই বিবৃতিতে ২৬টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস যুক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে 'আরও কয়েকটি দেশ এই ঘোষণায় অংশ নেয়।'
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানিয়েছে, স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৩২ এ পৌঁছেছে।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি এবং জার্মানি সহ ইউরোপের আরো কিছু দেশ ইরানকে 'তাত্ক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ বন্ধ করার এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার' অনুরোধ জানিয়েছে।
ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এরপর ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে এক যুদ্ধ শুরু হয়।
অগাস্টের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, তেহরান 'ভয় সৃষ্টি করতে' মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ করছে।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মামলার সাথে বিক্ষোভের সম্পর্ক রয়েছে।
তুর্ক বলেছেন, একই অভিযোগে আরও শতাধিক মানুষের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায্য বিচার না পাওয়ার এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে, কিন্তু তারা এদের সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' কে দায়ী করেছে।
বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বেশি মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে বিবৃতিটি পোস্ট করে বলেছেন, 'ন্যায়বিচার ও মর্যাদার দাবিতে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক নৃশংসতার সাত মাস পরও সরকার ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে।'
২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
এরপর থেকে সংঘাত ও বিক্ষোভ— উভয়ের প্রেক্ষিতে ইরানে গ্রেফতার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চীনকে বাদ দিলে, এই সংখ্যা ইরানকে বিশ্বের সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশে পরিণত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন