প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দশম শ্রেণীর কারাতে বিভাগের ক্যাডেট ইয়াসীন আরাফাত জীমের (ইয়াসার আহমেদ জীম) আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) জনাব মো. মাহফুজুল আলম খানকে এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ হলেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান, পিএসসি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জনাব এ, বি, এম এহছানুল মামুন, এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. মমিনুল হাসান। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব জনাব মোঃ মিজানুর রহমান এই কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১:৩০ টার মধ্যে একটি সময় অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে ইয়াসীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তবে বিকেএসপির মতো একটি নিশ্ছিদ্র ও সংরক্ষিত সরকারি ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন এবং রহস্যের উদ্ভব হয়েছে। ঘটনার পর ইয়াসীনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ইয়াসীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মেহেরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের ছেলে। ছোটবেলা থেকে কারাতে নিয়ে স্বপ্ন দেখা এই মেধাবী শিক্ষার্থী বাবার হাত ধরে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণের কারণে নিহতের পরিবারসহ ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর রহস্যের জট খুলতে নবগঠিত তদন্ত কমিটিকে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এই ধরণের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যকে কমিটি কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন