প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন মনে করেন যে, বিগত ৫৫ বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রীয় সংস্কার অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা হ্রাস করা এবং ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক চর্চা দেশকে টেকসই সংস্কারের দিকে নিয়ে যেতে সত্যিই সহায়তা করতে পারে।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়তে থাকলেও, ১০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৮৬০ ডলারে উন্নীত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা অন্যতম প্রধান কারণ হলো জাতিগতভাবে সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠার ঘাটতি।
রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রকৃত উপায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশে মূলত দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা কার্যকর আছে এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়, তবে রাষ্ট্র সংস্কার সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচিত সরকারকে ওয়েস্টমিনস্টার ডেমোক্রেসির মতো মেনে নিতে হবে, তেমনি বিরোধী দলকেও উপযুক্ত সম্মান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক গভর্নর জানান, বিশ্বজুড়ে এ প্রকার ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই এবং এটি মূলত বিরাজনীতিকরণ ও আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনাকে জোরদার করার একটি হাতিয়ার। তিনি বলেন, আমলাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
অতীতের রাজনৈতিক সুযোগ হাতছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনকালীন সংকট নিরসনে যৌথ মন্ত্রিসভার প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে দেশে বিরাজনীতিকরণের পথ বন্ধ হতো। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই সময় স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল, কিন্তু তা হাতছাড়া হওয়াকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, সাময়িক ব্যবস্থার দিকে না ঝুঁকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গঠন করা, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়াই প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের একমাত্র পথ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন