প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশব্যাপী ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৯০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবং দুর্গম ও গ্যাপ এরিয়া চিহ্নিত করে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এ পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক, দ্রুত সেবামূলক প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরো ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে এবং বর্তমানে তা একজন প্রকল্প পরিচালকের অধীনে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের স্থানগুলো হচ্ছে ঢাকা, গাজীপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, নওগাঁ, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
১২টি নতুন নির্মীয়মাণ ফায়ার স্টেশন হচ্ছে নবাবগঞ্জ-ঢাকা (বি শ্রেণি), পুবাইল-গাজীপুর (বি শ্রেণি), শিমুলতলী-গাজীপুর (বিশেষ শ্রেণি), ব্রাহ্মণপাড়া-কুমিল্লা (বি শ্রেণি), দেবীদ্বার-কুমিল্লা(বি শ্রেণি), নাঙ্গলকোট-কুমিল্লা (বি শ্রেণি), শিবপুর-নোয়াখালী (বি শ্রেণি), দাগনভূঞা-ফেনী (বি শ্রেণি), নারিকেলবাড়িয়া-যশোর (বি শ্রেণি), দৌলতপুর-কুষ্টিয়া (বি শ্রেণি), আজমেরীগঞ্জ-হবিগঞ্জ (স্থল-কাম নদী শ্রেণি) ও পিয়ারপুর-জামালপুর (বি শ্রেণি)।
এছাড়া ৮টি পুনর্নির্মাণ ফায়ার স্টেশন হলো মাদারীপুর সদর-মাদারীপুর (এ শ্রেণি), কুমিল্লা সদর-কুমিল্লা (এ শ্রেণি), মাইজদী-নোয়াখালী (এ শ্রেণি), চৌমুহনী-নোয়াখালী (এ শ্রেণি), নওগাঁ সদর-নওগাঁ (এ শ্রেণি), ঈশ্বরদী-পাবনা (এ শ্রেণি), সিলেট সদর-সিলেট (এ শ্রেণি) এবং ময়মনসিংহ সদর-ময়মনসিংহ (এ শ্রেণি)।
ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, মিরপুর ও সদরঘাটে দুটি বহুতল আবাসিক ভবনের নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সেবা সম্প্রসারণের জন্য ১০০টি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অ্যাম্বুল্যান্স সংগ্রহের কাজ চলছে।
এছাড়াও মিরপুর ১০-এ আধুনিক ও ভূমিকম্প সহনশীল সদরদপ্তর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠান অগ্নিকাণ্ডসহ সব দুর্ঘটনায় প্রথম সাড়াদানকারী।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাড়া দেওয়ার জন্য জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের বহরে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতা সম্পন্ন টার্ন টেবল লেডার এবং রিমোট কন্ট্রোল ফায়ারফাইটিং ভেহিক্যাল।
ফায়ারফাইটিং ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য হাইড্রোলিক স্প্রেডার, ভাইব্রেটর, সার্চ ভিশন ক্যামেরা ইত্যাদিও রয়েছে।
জাহেদ কামাল বলেন, বহুতল ভবনে নিজস্ব স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। উচ্চ ভবনে আগুন নেভানোর জন্য টার্ন টেবল লেডার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ৬৮ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন।
জরুরি কল গ্রহণ ও ডিসপ্যাচ ব্যবস্থা আধুনিক করা হয়েছে। আমাদের ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার (ইআরসিসি) নামে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের জন্য একটি হটলাইন নম্বর ১০২ চালু করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়েও সেবা গ্রহণ করা যায়।
ফায়ার ফাইটারদের প্রশিক্ষণে আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজ জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
দেশে নগরায়নের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত সাড়াদান সক্ষম বাহিনীতে রূপান্তরের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা, ভবন ধস, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সংগঠন প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অবশ্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া ও প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন