প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর বেঁচে ফেরা এক ইসরাইলি তরুণ তার নিহত প্রেমিকার কবরে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেফিডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায়, নোভা উৎসবে নিহত হওয়ার প্রায় তিন বছর পর, প্রেমিকা লিরন বারদার সমাধিস্থল থেকে বার আসরাফ (৩০) নামের ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, পশ্চিম তীরের এলকানা শহরের ওই কবরস্থানে আসরাফের বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, আসরাফকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
গাজা উপত্যকার কাছে আয়োজিত ওই সংগীত উৎসবে হামাসের হামলায় ৩৭৮ জন মানুষ নিহত হয়। ওই হামলায় ২৬ বছর বয়সি প্রেমিকা বারদার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই আসরাফ গভীর শোকে আচ্ছন্ন ছিলেন।
ফরাসি-ইহুদি অধিকারকর্মী জেরেমি বেনহাইম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে আসরাফের মৃত্যুর খবরটি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আসরাফ বারদার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। আসরাফ প্রায়ই বারদার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন এবং প্রেমিকার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন।
এর আগে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছিল যে, ওই উৎসবে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করছিলেন বারদা। হামাসের হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং আহতদের সেবা করার জন্য সেখানেই থেকে যান।
বারদার জীবনের শেষ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি উৎসবে আসা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
তার বাবা আভি ইসরাইল হাইয়োম পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই দিন সকালে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি তাকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু সে রাজি হয়নি। সে বলেছিল, সেখানে অনেক মানুষ আহত অবস্থায় আছে এবং সে তাদের পাশে থাকতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিরন এমনই ছিল। সে পালিয়ে আসতে রাজি হলে বরং আমি অবাক হতাম।’
আসরাফের মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যার এক বছরেরও কম সময় আগে ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা আরেক তরুণ নিজের গায়ে আগুন দিয়ে মর্মান্তিকভাবে আত্মহত্যা করেছিলেন।
হামাসের হাতে নিজের প্রেমিকাকে খুন হতে দেখার দুই বছর পর, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নেতানিয়া শহরের কাছে একটি মহাসড়কের পাশে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে রোয়েই শালেভ (২৮) নামের ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আর এ যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না।’
২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোভা উৎসবে হামাসের হামলার পরের ছয় মাসের মধ্যে সেখান থেকে বেঁচে ফেরা অন্তত ৫০ জন আত্মহত্যা করেছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন