প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনকে নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়। ছবিটি ২০২৩ সালের সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগে তোলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’।
‘দ্য ডিসেন্টে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’
ছবিতে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বর্তমান বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এবং ইউএনবির উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন একটি কক্ষে বসে আছেন।
ছবিটি যাচাই করে দেখা গেছে, এটি মূলত ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগের সময়ের।
পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবির টাইমলাইন অনুযায়ী, ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা হয়। অন্যদিকে, সময় টিভিতে ওই সম্পাদকীয় টকশোর সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয় রাত ১০টায়। অর্থাৎ, ছবিটি টকশো শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে ধারণ করা হয়েছিল।
তাছাড়া পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবিতে থাকা তিনজন যে ধরন ও রঙের পোশাক পরিহিত ছিল, টকশোতেও তাদের একই পোশাক দেখা যায়।
এদিকে আগের টকশোর ছবি ছড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন মিডিয়া সেল।
নিন্দা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে, সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে’-একটি পুরোনো ছবি। অথচ সেই ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিতভাবে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
আরও বলা হয়, ‘দেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরোনো একটি ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গুজব নয়—সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতেই কথা হোক। অপপ্রচার নয়—দেশ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন।
এর আগে, সকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’
তবে, ক্যামেরার সঙ্গে থাকা স্বয়ংক্রিয় দিন-তারিখে দেখা যায় ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনরা তার পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কমেন্টে নতুন তথ্য যুক্ত করেন।
তাতে তিনি দাবি করেন, এহছানুল হক মিলন ও শাজাহান খানের সঙ্গে বসে থাকা লোকটি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের বর্তমান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, আব্দুল হাই চৌধুরী ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তার ভাষ্য, ‘উনি তো ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই আমলে তিনি কীভাবে এত দ্রুত প্রমোশন পেলেন এবং কীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং পেলেন? বিষয়টি নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নের সঙ্গে যেন অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন