প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মাঝে হামাসের সম্ভাব্য নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হামাস একটি নতুন রোডম্যাপের আওতায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে। এই বিষয়ে হামাসও সম্মতির কথা জানিয়েছে।
তবে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সাথে সাথে রয়েছে একটি গভীর সংশয়। তাদের আশঙ্কা হল, হামাস অস্ত্র পরিত্যাগ করলেও ইসরায়েল হয়তো তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সংঘাতের অবসানও ঘটবে না।
গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তারা আগেও বহুবার যুদ্ধ বন্ধের এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। কিন্তু বাস্তবে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও স্থায়ী শান্তির দিকে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বহু মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় শরণার্থী শিবির বা অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে। খাদ্য ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগবালাই শ্রীদ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
একজন আহত গাজাবাসী এপিকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আলোচনা বা অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের চাইতে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে নিরাপত্তা, খাদ্য এবং চিকিৎসা। মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি না হলে, কোনো চুক্তিই তাদের কাছে অর্থবহ হবে না।
নতুন প্রস্তাবিত রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, হামাসের অস্ত্র একটি নতুন টেকনোক্র্যাটিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকবে না এবং এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে হবে, যাতে পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।
তবে গাজার অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, হামাস এবং ইসরায়েল উভয় পক্ষই অতীতে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও কেউ কেউ হামাসের অস্ত্র একসময় পরিত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন, তবুও তারা বিশ্বাস করেন যে, এটি সহজে বাস্তবায়ন হবে না।
অন্যদিকে, অনেক ফিলিস্তিনি মনে করেন, ইসরায়েল গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার নীতি থেকে সরে আসবে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নতুন নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা খালি করে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না।
ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন রোডম্যাপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটির কিছু বিষয় ইসরায়েলের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে গাজার নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং বহু মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়। এরপর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য মনে করে, তবে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক এবং যোদ্ধাদের আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও গাজার অনেক মানুষের একটাই স্বপ্ন, একদিন তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া সম্ভব করবে। বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেলেও তারা বিশ্বাস করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন