প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও পোশাকসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির নেতারা নিহত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে গিয়ে এসব সহায়তা পৌঁছে দেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
সহায়তা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সহসভাপতি এম এ জিন্নাহ, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকেরা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ভবিষ্যতেও পরিবারটির প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে পার পেয়ে না যান, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আনন্দিতা সাংমা। তিনি স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই সন্তানকে এতিম করা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
যেভাবে হত্যা করা হয় আলিফকে
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকান থেকে নিজের রেখে যাওয়া মুঠোফোন আনতে গেলে সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
৪০ বছর বয়সী আলিফ ফকির বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে মাদক কারবার, চোরাচালান ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন।
আলিফের পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন