প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার সাত মাস অতিক্রম করেছে, কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও মামলার অভিযোগপত্র এখনও দাখিল করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের কিছু কাজ এখনও সম্পন্ন হওয়া বাকি রয়েছে। অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি কর্মচারী ফজলু এখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, স্বীকারোক্তি বদলে।
চলতি বছরের ৪ মার্চ, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিসকক্ষে আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনায়, নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ফজলুর রহমান ফজলুকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে সাবেক কর্মচারী উপরেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এবং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান রয়েছেন। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্য তিনজন এখনও পলাতক রয়েছে।
ঘটনার পর, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলু হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলির ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর, তিনি তার পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যরা কারাগারে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ফজলুর সাক্ষাৎকার নেন। কমিটির কাছে লিখিত জবাবে ফজলু দাবি করেন, থিসিস পেপার চাইতে রুনার কক্ষে গিয়ে তিনি দুই মুখোশধারীকে শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে তারা তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল ৪টা ১ মিনিটে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে পলিথিনে মোড়ানো বস্তু নিয়ে বের হন ফজলু। ৪টা ১০ মিনিটে তাকে দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষের দিকে যেতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষিকার ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে ফজলুকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখা যায়।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, কারাগারে ফজলুর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তিনি মুখে বলতে না পারায় লিখিতভাবে উত্তর দেন। হত্যার কথা অস্বীকার করার পর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।
পরে সিন্ডিকেটের ২৭৪তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জানান, আগের কমিটির প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। আসামি স্বীকার করুন বা না করুন, প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তারা কাজ করছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইবি থানার ওসি এসএম মামুনুর রশীদ আমার দেশকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত অনেক আগেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করা হবে। তদন্ত শেষ করতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৯ জুন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। তবে প্রশাসনিক তদন্তের এসব উদ্যোগের মধ্যেও মামলার অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখনো অপেক্ষমাণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন