প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতার পতনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বায়তুল রহিম জামে মসজিদ’ দীর্ঘ সময় পর পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় সচেতন মুসল্লিরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পুনর্নির্মিত এই মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রেরিত প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও জমির পত্বনগ্রহীতা মো: আবদুর রাজ্জাক-এর আবেদনপত্রের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, বরগুনা সদর থানার খেজুরতলা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব আবদুর রহিম হাওলাদার (মাস্টার)-এর পরিবার ১৯৮৬ সাল থেকে ওই জমিতে বাসস্থানের পাশাপাশি ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ, সামাজিক বনায়ন এবং মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার্থে টিনশেড ও পাকা মসজিদ স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছিলেন এবং অদূরেই মুসল্লিদের ওজু ও গোসলের জন্য একটি ঘাট বাঁধানো পুকুরও তৈরি করা হয়েছিল।
ইতিপূর্বে জমির স্বত্ব ও বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বরগুনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) একাধিকবার সরেজমিনে পরিমাপ ও সেলামী নির্ধারণ করে ইতিবাচক প্রতিবেদন জমা দেন। বরগুনা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে একাধিকবার সুপারিশসহ স্পষ্ট মতামত প্রদান করা হয়েছিল যে, উক্ত জমিতে সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন নেই এবং আবেদনকারীকে তা স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে।
তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও প্রভাব বিস্তারের জন্য ‘নৌ-টার্মিনাল স্থাপন’ বা ‘ড্রেজিং’-এর অজুহাত দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ ও সংলগ্ন জমি দখলের চক্রান্ত চালানো হয়। নথির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নৌ-টার্মিনালের নির্ধারিত অবস্থান ছিল জমির দক্ষিণ অংশে এবং ড্রেজিং-এর জন্য জায়গা চিহ্নিত ছিল উত্তর অংশে, যার সাথে মসজিদ ও আবাসন অংশের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান ছিল না। তা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদটি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় এবং সেখানে বালু ভরাট করে মুসল্লিদের ইবাদতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতনের সুযোগে স্থানীয় মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হারানো মসজিদটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মুসল্লিদের নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে কাঠ ও টিন দিয়ে প্রাথমিকভাবে ঐতিহ্যবাহী বায়তুল রহিম জামে মসজিদটি পুনরায় দাঁড় করানো হয়েছে।
আজ দুপুরে পুনর্নির্মিত মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রথম জুমার নামাজে স্থানীয় বহু মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি এবং বায়তুল রহিম জামে মসজিদের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের তাওফিক কামনা করা হয়। একই সাথে এলাকাবাসী বিগত সরকারের আমলের অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করে মসজিদের জমি স্থায়ীভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন